বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:২১ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ ডেস্ক : রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিষয়ে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের মতামতের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার একমত পোষণ করে। এ মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ প্রেস সচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) হেয়ার রোডে ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।
গত দুদিন ধরে রাষ্ট্রপতি নিয়ে নানা ধরনের বিতর্ক হচ্ছে। ‘মিথ্যাচার করেছেন’, এরপর তিনি রাষ্ট্রপতি থাকতে পারবেন কিনা-সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শ্রম উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। আর সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সামনে আসিফ নজরুল বলেন, একজন সর্বোচ্চ পদে থাকা মানুষ পুরো জাতির সামনে ভাষণ দিয়ে পদত্যাগের বিষয়ে জানিয়ে, দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে অভিমত নেওয়ার পরও উনি কীভাবে এটা বলতে পারেন এটি আমার বোধগম্য না। এখন উনার স্ববিরোধী কথাবার্তা বলার কোনও সুযোগ নেই। যদি তিনি তার বক্তব্যে অটল থাকেন তাহলে উনি নিজ পদে থাকার যোগ্য আছেন কিনা সেটি আমাদের উপদেষ্টামণ্ডলীর সভায় ভেবে দেখতে হবে।
আসিফ নজরুল আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি বলেছেন উনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র পাননি। এটা একটি মিথ্যাচার। এটা হচ্ছে উনার (রাষ্ট্রপতির) শপথ লঙ্ঘনের শামিল। এটা কি আসিফ নজরুলের ব্যক্তিগত মতামত, নাকি প্রধান উপদেষ্টাসহ পুরো উপদেষ্টা কাউন্সিলের মতামত––এমন প্রশ্নের জবাবে অপূর্ব জাহাঙ্গীর বলেন, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল যা বলেছেন সেটার সঙ্গে সরকার একমত পোষণ করে।
রাষ্ট্রপতিকে সরানোর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আগামীতে রাষ্ট্রপতিকে সরানোর কোনও উদ্যোগ নেওয়ার চিন্তাভাবনা আছে কিনা জানতে চাইলে অপূর্ব জাহাঙ্গীর বলেন, ভবিষ্যৎ বলে দেবে।
উল্লেখ্য, দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বলেছেন, তিনি শুনেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু তার কাছে এ সংক্রান্ত কোনও দালিলিক প্রমাণ বা নথিপত্র নেই। সাক্ষাৎকারটি গত শনিবার (১৮ অক্টোবর) পত্রিকার রাজনৈতিক ম্যাগাজিন সংস্করণ ‘জনতার চোখ’-এ প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে, আগামী বৃহস্পতিবারের (২৪ অক্টোবর) মধ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগসহ পাঁচটি দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে এই দাবি ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।
তাদের দাবির মধ্যে আছে-মুজিববাদী ৭২-এর সংবিধান বাতিল করতে হবে; এই সপ্তাহের মধ্যে ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ নিষিদ্ধ করতে হবে; এই সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগ করতে হবে; এই সপ্তাহের মধ্যে জুলাই বিপ্লবকে ‘প্রোক্লেমেশন অব রিপাবলিক’ ঘোষণা করতে হবে এবং বিগত তিনটি নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ সাল) অবৈধ ঘোষণা করে নির্বাচিতদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে, তারা যেন কখনও বাংলাদেশে নির্বাচন করতে না পারে সেজন্য আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। এই সপ্তাহের মধ্যে পাঁচ দফা দাবি না মানা হলে আবার রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে সরকারের অবস্থান কী––জানতে চাইলে উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, যে দাবিগুলো আছে সেই দাবিগুলো যদি যৌক্তিক হয় তাহলে সরকার অবশ্যই পর্যালোচনা করবে। দীর্ঘদিনের অপশাসনের কারণে মানুষের মনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকের যৌক্তিক দাবি-দাওয়া সরকার শুনবে এবং নির্দিষ্ট একটি চ্যানেলের মাধ্যমে দাবিগুলো জানানোর জন্য বলেছে। সরকার প্রত্যেকটা দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল।
রাষ্ট্রপতি অপসারণ কোন প্রক্রিয়ায় হবে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আজাদ মজুমদার বলেন, এরকম কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। যে সিদ্ধান্ত হয়নি সে বিষয় কোন প্রক্রিয়ায় হবে সেটা নিয়ে আলোচনা অবান্তর।
সার্চ কমিটির প্রসঙ্গ টেনে আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, সার্চ কমিটি নিয়ে একটি আইন আছে। আইনে বলা হয়েছে কারা কারা থাকবেন। যেহেতু আইনটি বলবৎ আছে, আইনের এখনও পরিবর্তন হয়নি, সার্চ কমিটি গঠন করতে হলে এই আইনটা অনুসরণ করেই করতে হবে। এই বাইরে অন্য কোনও বিকল্প নেই।
রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা সার্চ কমিটির জন্য নাম প্রস্তাব করেছেন কিনা জানতে চাইলে আবুল কালাম আজাদ বলেন, সেটা ব্যক্তিগতভাবে নাম চাইতেই পারে।
সংস্কার কমিশনের কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর একটা দাবি আছে দ্রুত নির্বাচনের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করার। নির্বাচন প্রক্রিয়ারই একটা অংশ সার্চ কমিটি। সংস্কার ও সার্চ কমিটি দুটো প্রক্রিয়া আলাদাভাবে চলছে। সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply